সদ্য করোনামুক্ত? ফিরতে চান পুরনো ডায়েটে? পড়ুন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ


হাইলাইটস

  • করোনা আক্রান্ত হওয়ার আগে অনেকেই কড়া ডায়েটে থাকতেন।
  • কিন্তু করোনার পর তাঁদের সেই ডায়েট পুরোপুরি পালটে ফেলতে হয়েছিল।
  • কারণ অতিমারীর সঙ্গে মোকাবিলায় বেশি প্রোটিন
  • আর ক্যালোরিযুক্ত খাবার খাওয়ার কথা বলা হয়েছিল

এই সময় জীবনযাপন ডেস্ক: করোনার বেড়াজাল কাটিয়ে উঠে আসতে আসতে ছন্দে ফিরছে গোটা বিশ্ব। এই অতিমারী লক্ষ লক্ষ মানুষের প্রাণ কেড়েছে। যাঁরা জয় করেছেন করোনাকে, সুস্থ হওয়ার পরও তাঁদের শরীরে দেখা দিচ্ছে একাধিক সমস্যা। যাঁদের কোনও কালেই ডায়াবিটিস ছিল না, তাঁদের রক্তে একলাফে শর্করার পরিমাণ বেড়ে গিয়েছে অনেকখানি। এছাড়াও দুর্বল লাগা, বুকে ব্যথা, দীর্ঘমেয়াদি পেটখারাপ এসব তো আছেই। আর এই সবই প্রভাব পড়ে লাইফস্টাইলে। করোনা আক্রান্ত হওয়ার আগে অনেকেই কড়া ডায়েটে থাকতেন। কিন্তু করোনার পর তাঁদের সেই ডায়েট পুরোপুরি পালটে ফেলতে হয়েছিল। কারণ অতিমারীর সঙ্গে মোকাবিলায় বেশি প্রোটিন আর ক্যালোরিযুক্ত খাবার খাওয়ার কথা বলা হয়েছিল। আর এর ফলে ওজনও বেড়েছিল ভালোই। সেই সঙ্গে ব্লাড সুগারের মাত্রাও বেড়েছে। আবার অনেকের একদম কমে গিয়েছে। ফলে আবারও অনেকেই ফিরতে চাইছেন হেলদি ডায়েট প্ল্যানে। তাহলে এখন উপায়?

করোনা আক্রান্তের পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন রকম নতুন উপসর্গ দেখা যায় আক্রান্তের শরীরে, অনেক ক্ষেত্রে ওজনের তারতম্য, খিদে কমে বা হঠাৎ করে বেড়ে যাওয়া, মাংস পেশির দুর্বলতা ইত্যাদি। এগুলো থেকে বাঁচতে উপায় কিন্তু হেলদি ডায়েট ও যোগাসন।
যোগাসন ও এক্সারসাইজ এর ক্ষেত্রে বলি যাদের রক্ত তঞ্চন জনিত সমস্যা দেখা গেছিলো তারা ৪-৫ দিন পর থেকে কম ইন্টেনসিটি এর ব্যায়াম করুন। যা তাদের ফুসফুসের কার্যক্ষমতা বাড়াবে , সঙ্গে রক্ত সংবহন ও ভালো রাখবে।

যারা নিউমোনিয়ার সমস্যায় ভুগছিলেন তারা মোটামুটি এক সপ্তাহ পর থেকে যোগাসন শুরু করতে পারেন, ভারী কিছু ব্যায়াম না করাই ভালো, তবে নিয়মিত রেসপিরাশন রেট ও হার্ট রেট মনিটর করতে হবে যদি কারুর হার্টের সমস্যা থাকে তাহলে হালকা প্রাণায়াম ছাড়া ১০-১২ দিন অন্য কিছু করা যাবে না। তারপর প্রতিদিন ১০ -১৫ মিনিট করে শুরু করতে হবে

প্রসঙ্গ খাওয়া দাওয়া

করোনার ট্রিটমেন্ট এর ক্ষেত্রে বেশিরভাগ সময়তেই ব্যবহার করা হয় স্টেরয়েড জাতীয় ওষুধ, যা ব্লাড সুগার বাড়িয়ে দেয়। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় যাঁদের আগে ডায়াবিটিস- এর সমস্যা ছিল না তাদেরও করোনা থেকে সেরে ওঠার পরে ব্লাড সুগার কিন্তু বেশি থাকছে। তাই তাঁদের জন্য বলবো বেশি করে প্রোটিন, প্রচুর শাকসবজি, মরসুমি ফল,ও প্রচুর পরিমানে জল- এগুলোই দিতে পারে তাঁদের একটা হেলদি লাইফস্টাইল। ভাজাভুজি যতটা সম্ভব কম খেতে হবে, কারণ করোনা পরবর্তী সময়ে ডায়রিয়া হওয়ার বেশ সম্ভাবনা থেকে যায়। তাই যে কোনো মানুষ যাঁদের আগে ডায়াবিটিস, হাই প্রেসার ইত্যাদির মতো কোনো লাইফস্টাইল ডিজিজ নেই তারা সেরে ওঠার ৪-৫দিন পর থেকেই হেলদি ডায়েটপ্ল্যানে আস্তে পারেন, সঙ্গে অবশ্যই চলবে যোগাসন ও প্রাণায়ম।

যাঁরা আগে থেকেই ইমিউনো কম্প্রোমাইজড অর্থাৎ ডায়াবেটিস, কিডনি সমস্যা , সি ও পি ডি বা ক্যানসার এ আক্রান্ত তাদের কিন্তু খুব সাবধানে থাকতে বলা হচ্ছে। কারণ আক্রান্ত হলে তাদের সেরে উঠতে বেশ সময় লাগছে। একই কথা প্রযোজ্য যারা বয়স্ক তাদের ক্ষেত্রেও। কোনো বয়স্ক বা ডায়াবেটিক পেশেন্ট সেরে ওঠার পর থেকেই শুরু করুন ডায়াবেটিক ডায়েট অর্থাৎ কম কার্বোহাইড্রেট যুক্ত খাবার। হোল গ্রেন সিরিয়ালস, শাকসবজি, ফল, লিন প্রোটিন যেমন চিকেন, ডিম, মাছ , সয়াবিন, ইত্যাদি, কম গ্লাইসেমিক ইনডেক্স ও লোড যুক্ত খাবার থাকুক ডায়েটে।প্রতিদিন থাকুক টক দই, যা প্রোটিনের চাহিদা মেটাবে আবার ইনফেকশন কমাতেও সাহায্য করবে।

নতুন বছরে সুস্বাস্থ্যের অঙ্গীকার ! জেনে নিন হেলদি ডায়েট টিপস…
হেলদি নাটস যেমন আমন্ড, আখরোট খান একটু করে, হার্টের কার্যক্ষমতা ভালো রাখবে।
দুটো মিল এর মাঝে বেশিক্ষন গ্যাপ দেবেন না, অঙ্কুরিত ছোলা খেতে পারেন রোজ। প্রোটিন ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট দুই এরই চাহিদা মিটবে।
ব্লাড সুগার মনিটর কিন্তু খুব ইম্পরট্যান্ট। এই সময় ডায়াবেটিক পেশেন্ট দের চোখ ও কিডনির সমস্যা দেখা যেতে পারে, তাই সেগুলোও মনিটর করা খুব দরকার।

দেখতে হবে যেন এই সময় কোনো কাটা ছড়া না হয়, তাহলে কিন্তু সারতে বেশ সময় লাগবে।
হেলদি ডায়েট ও যোগাসন এই দুই এর দ্বারা কিন্তু করোনা ও তার পরবর্তী সময় কে খুব সহজেই জয় করা সম্ভব।

তথ্য: রাখী চট্টোপাধ্যায়, ক্লিনিক্যাল ডায়াটিশিয়ান ও ডায়াবিটিস এডুকেটর

এই সময় ডিজিটালের লাইফস্টাইল সংক্রান্ত সব আপডেট এখন টেলিগ্রামে। সাবস্ক্রাইব করতে ক্লিক করুন এখানে।