মুখ ঢেকে হাসতে হয়? এই সহজ উপায়েই হলুদ দাঁতকে করে তুলুন মুক্তোর মতো সাদা!


এই সময় ডিজিটাল ডেস্ক: দাঁত হলুদ বা কালচে ছোপ থাকার কারণে বিব্রত হতে হয় আমাদের অনেককেই। সমাজে মেলামেশার সময়ে অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায় এই দাগ। নানা কারণে দাঁতে এই হলুদ দাগ দেখা দিতে পারে। দাঁতের অযত্ন, তামাক সেবন, নিয়মিত ওষুধ সেবন, পান মশলা কিংবা মদ্যপানের কারণে চলে যেতে পারে দাঁতের স্বাভাবিক শুভ্রতা। যাঁরা দাঁত হলুদ হয়ে যাওয়ার সমস্যায় ভুগছেন তাঁরা নানা উপায়ে দাঁতের স্বাভাবিক শুভ্রতা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করেন। নানা ধরনের টুথপেস্ট, পাউডার, ফ্লস— অনেক রকমের কৌশল তাঁরা এজন্য প্রয়োগ করে থাকেন। কিন্তু কোনওটাতেই খুব সুফল মেলে না। সেক্ষেত্রে তাঁরা খোঁজেন এমন কোনও উপায় যা নিশ্চিতভাবে এবং দ্রুত হলুদ দাঁতকে সাদা করে তুলতে পারে। সত্যি কি সেরকম কোনও উপায় রয়েছে? আশার কথা, রয়েছে তেমন উপায়।

লেবু ও বেকিং পাউডারের পেস্ট

ঝকঝকে দাঁতের জন্য বেকিং পাউডারের কার্যকারিতার কথা অনেকে শুনে থাকবেন। এই পাউডারের সঙ্গে লেবুর রস মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করে টুথব্রাশে নিয়ে দাঁত মাজুন। মুখে এক মিনিট ধরে এই পেস্ট রেখে দিন এরপর ধুয়ে ফেলুন। এতে অ্যাসিড দাঁতের এনামেলের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারবে না। তবে এই পেস্ট নিয়মিত ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন, তাতে উপকারের বদলে ক্ষতি হতে পারে। একটি পাত্রে এক চা চামচ বেকিং সোডা নিন। এবার তাতে মিশিয়ে দিন অর্ধেক করে কাটা একটি পাতি লেবুর রস। এবার চামচে করে মিশিয়ে নিন দু’টি উপাদান। দেখবেন, মিশ্রণটি প্রাথমিকভাবে ফেনা ফেনা আকার ধারণ করছে। কিন্তু কিছুক্ষণ পরেই দেখবেন মিশ্রণটির আকার হয়েছে একটি ঘন তরলের মতো। এবার এই তরল আঙুলে করে তুলে দাঁতের উপরে লাগিয়ে দিন। মনে রাখবেন, দাঁত মাজার মতো করে দাঁতে মিশ্রণটি ঘষার প্রয়োজন নেই কোনও। মিশ্রণটি শুধু লাগিয়ে রাখুন দাঁতের উপরে। তিন মিনিট পরে কুলকুচি করে মুখ ধুয়ে ফেলুন।

স্ট্রবেরি ও লবণের মিশ্রণ

স্ট্রবেরিতে প্রচুর ভিটামিন সি আছে যাতে দাঁত সাদা হয়। এতে ম্যালিক অ্যাসিড নামের এনজাইম আছে যা দাঁতের হলদেটে ভাব দূর করতে পারে। তিনটি স্ট্রবেরি গুঁড়ো করে তার সঙ্গে এক চিমটি লবণ মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন। তা ব্রাশে করে নিয়ে দাঁত মাজুন। মুখ ধুয়ে ফেলার আগে এ পেস্ট মুখে পাঁচ মিনিট পর্যন্ত রেখে দিতে হবে। এতে বেকিং পাউডারও মিশাতে পারেন। তবে এই পেস্টও ঘন ঘন ব্যবহার না করাই ভালো। মনে রাখবেন, দাঁত মাজার মতো করে দাঁতে মিশ্রণটি ঘষার প্রয়োজন নেই কোনও। মিশ্রণটি শুধু লাগিয়ে রাখুন দাঁতের উপরে। তিন মিনিট পরে কুলকুচি করে মুখ ধুয়ে ফেলুন।

পোড়া কাঠকয়লা

আগে অনেকেই দাঁত পরিষ্কারের কাজে পোড়া কাঠকয়লা ব্যবহার করতেন। এই পদ্ধতি কাজে লাগাতে পারেন আপনিও। পোড়া কাঠকয়লা বা ঘুঁটের ছাই নিয়ে ভালো করে হাতে পিষে নিজের আঙ্গুলের সাহায্যে দাঁতে ঘষুন। দাঁত পরিষ্কার হবে। তবে শুধু দাঁত মাজা নয়। সঙ্গে নিয়মিত জিভ পরিষ্কারও করুন। এতে দাঁতের ছোপ তো দূরে থাকেই। সঙ্গে মুখে দুর্গন্ধও বন্ধ হয়। কারণ অনেক সময়েই জিভে বা দাঁতের কোণায় খাবার জমে থাকে। তা পরিষ্কার করা দরকার। অবশ্যই দুবেলা দাঁত মাজুন। আর অতিরিক্ত হলুদ-যুক্ত ও টক খাবার খেলে অবশ্যই সঙ্গে সঙ্গে ব্রাশ করুন। কারণ এই দুই ধরনের খাবার থেকে সবচেয়ে বেশি দাঁতে ছোপ পড়ে।

গাজর

দাঁতের দাগ দূর করতে সাহায্য করে গাজর। কারণ এতে উপস্থিত ফাইবার দাঁত পুরোপুরি পরিষ্কার করে দেয়। এটি দাঁতের কোণার ময়লা দ্রুত দূর করতে সহায়তা করে। দাঁত পরিষ্কার রাখতে নিয়মিত গাজর খাওয়ার অভ্যাস করুন। স্কেলিং করলে দাঁতের হলুদ ভাব চলে যায় ঠিকই, কিন্তু একের বেশিবার স্কেলিং করা ঠিক নয়। তাই ঘরোয়া টোটকা ব্যবহার করুন। এছাড়া একটি পান পাতা নিয়ে তাতে সরষের তেল লাগিয়ে নিন। এরপর মোমবাতির আগুনে পান পাতা গরম করে, দাঁতে ভালো করে ঘষুন। এবার ব্রাশ দিয়ে ভালো করে ঘষে নিন। এভাবে কয়েক বার করলেই দাগ চলে যাবে। আপেল, গাজর, বাদাম এই খাবারগুলি খেলে দাঁত ভাল থাকে। এই খাবারগুলি কামড়ে খেলে দাঁত মজবুত ও পরিষ্কার হয়।

নুন ও সরষের তেল

নুনের মধ্যে ২-৩ ফোঁটা সরষের তেল মিশিয়েও দাঁত পরিষ্কার করতে পারেন, এতে আপনার দাঁত ঝকঝক করবে। বেশি মাত্রায় চকোলেট খাবেন না। দাঁতে ক্যাভিটি হওয়ার অন্যতম কারণ চকোলেট। এছাড়াও সয়া সস, ব্লু বেরি এগুলো খাবেন না। ধূমপান করলে দাঁতে ছোপ পড়বেই। আর এই দাগ খুব গভীর ভাবে পড়ে। ফলে সহজেই কালো ছোপ দূর হয় না। পানমশলা,তামাকও ছাড়াতে হবে। যদি হাসির সময়ে বেরিয়ে পড়ে হলুদ বা কালো ছোপ পড়া দাঁত, তাহলেই সব মাটি! তাই সুন্দর ঝকঝকে পরিষ্কার দাঁত পেতে একটু তো কাঠখড় পোড়াতে হবে।