মহিলা হিসেবে আপনিও কি নিজের শর্তেই বাঁচেন? যে ভাবে চিনবেন


আজকালকার দিনে সব মেয়েই চান নিজের পায়ে দাঁড়াতে। নিজের মতো করে যাবতীয় শখ-আহ্লাদ পূরণ করতে। আর এই চাওয়া কিন্তু নিজেদের মতো করেই পূরণ করছেন মেয়েরা। তাই কেউ যেমন প্লেন চালাচ্ছেন, তেমনই কেউ গবেষণাগারে ব্যস্ত গভীর রহস্য উদঘাটনে। তেমনই মেয়েদের গড় বিয়ের বয়সও বেড়েছে। নিজর জন্য যে কোনও রকম ঝুঁকি নিতে মেয়েরা আজ প্রস্তুত। বরং তাঁরা জীবনকে ভাবছেন নিজেদের মতো করে। সেই ভাবেই এগিয়ে যাচ্ছেন। একটি ছেলের অবলম্বন হয়ে আজ আর একটি মেয়ে বাঁচে না। বরং বাঁচে নিজের শর্তে। ভুল কে যেমন তাঁরা আঙুল দিয়ে চিহ্নিত করে দেন তেমনই সত্যের পথে এগিয়ে যেতেও দুবার ভাবেন না। আমাদের চারপাশে অনেক মহিলাই আছেন। কিন্তু তাঁদের মধ্যে কার কার এভাবে স্বাধীন জীবন যাপনের এবং নিজের পায়ে দাঁড়ানোর মানসিকতা রয়েছে? বুঝবেন যেভাবে…

জীবনে সততাই তাঁদের মূল মন্ত্র

যে সব মেয়েরা নিজে লড়াই করে প্রতিমুহূর্তে এগিয়ে চলেছেন, তাঁরা কিন্তু মিথ্যেকে আশ্রয় করে বাঁচেন না। এমনকী নিজেদের সব মনোভাবের প্রকাশও সঠিক। সেখানে কোনও লুকোছাপা নেই। এমনকী মিথ্যেকে তাঁরা সহজেই সম্মুখে নিয়ে আসেন। নিজের উপর বিশ্বাস আর ভরসা নিয়েই এঁরা এগিয়ে চলেছেন।

অসহায়ের পাশে দাঁড়ান

এঁরা বরাবরই অসহায়ের পাশে থাকেন। নিজের টুকু বাঁচিয়ে যথাসাধ্য চেষ্টা করেন বাকিদের সাহায্য করতে। সেখানে ধর্ম, লিঙ্গ কোনও কিছুই বাধা মানে না। বরং কীভাবে মানুষের ভালো বৃহবে, কীভাবে সবাই খুশিতে বাঁচবেন সেই চেষ্টাই করেন।

এদের কাছের মানুষ সবাই হয়ে উঠতে পারেন না

এই রকম মানসিকতার মেয়েরা খুব সহজেই মানুষ চিনতে পারেন। জীবনে নানা ঘাত প্রতিঘাতের মধ্যে দিয়ে যাওয়ার এঁরা সত্যি কথা স্পষ্ট ভাবে মুখের উপর বলে দেন। ফলে সবাই চাইলেই এঁদের কাছে আসতে পারেন না। বরং এঁরা নিজস্ব ভঙ্গীতে কাছের মানুষদের চিনে নেন।

এঁরা বাঁচেন নিজের শর্তে

এই রকম মেয়েদের বেড়ে ওঠাই অন্যভাবে। এঁজদের পরিবার, পরিবেশই এরকম মানসিকতার ভিত তৈরি করে দিয়েছে ছোট থেকেই। কীভাবে থাকবেন, কীভাবে চলবেন সব শিক্ষাই পেয়েছেন ছোট থেকে। যাঁর ফলে এঁরা কোনওদিনই বিগড়ে যান না। বরং নিজের ভালোটা খুব ভালোভাবে বোঝেন। সেই সঙ্গে খুব কম ছেলেদেরই প্রিয়পাত্রী হন এঁরা।

কাজের প্রতি প্যাশন থাকে

এঁরা যে কাজই করেন না কেন, খুব মন দিয়ে করেন। কাজের প্রতি এঁদের নিষ্ঠা থাকে দেখার মতো। আর তাই এঁরা কাজে কখনও ফাঁকি দেন নায শত কষ্টেও নিজের দায়িত্ব ঠিকই পালন করেন। নিজে প্রতিষ্ঠা পাওয়ার জন্য এঁরা কঠোর পরিশ্রম করেন।

সবার কাছে অনুপ্রেরণা পৌঁছে দেব এঁরা

এঁদের কাজ সমাজ খুবই শ্রদ্ধার সঙ্গে দেখে। সেই সঙ্গে বাকি মেয়েদের কাছেও এঁরা অনুপ্রেরণা। অনেকেই নিজেরমতো করে খেটে নিজের পায়ে দাঁড়াতে চান। কিন্তু প্রতি মুহূর্তে ভয় পান। তাঁদের মানসিক শক্তি যোগান এই সব মহিলারাই। সমাজে সবাইকেই এগিয়ে আসার মন্ত্র দেন এই মহিলারা।

কঠিন সময়েও ভেঙে পড়েন না

কঠিন সময়েও এই মহিলারা থাকেন খুবই আশাবাদী। দুর্দিন কেটে কবে সুদিন আসবে, তারই প্রতীক্ষায় থাকেন এঁরা। চারপাশের সবাইকে সাহস যোগান যে ভালো থাকতেই হবে। হাতে হাত রেখে কীভাবে যুদ্ধ জয় করে এগিয়ে যাওয়া যায়, তা কিন্তু সমাজ এঁদের থেকেই শেখে। চরৈবেতি এঁদের মন্ত্র।

নিজের প্রতি দায়বদ্ধ

এঁরা সমাজে নিজের ভূমিকার প্রতি খুবই দায়বদ্ধ। নিজে কী করছেন, কেন করছেন এই প্রতিটি উত্তরই তাঁদের কাছে স্পষ্ট থাকে। নিজের জীবনের যাবতীয় ঝুঁকি নিজেই নেন। সেখানে সচরাচর কাউকে জড়ান না। নিজের জীবনের যাবতীয় দায়িত্ব এঁরা নিজেরাই পালন করেন।