বৃহস্পতির সঙ্গে মকরের মিলনে এবছরই হরিদ্বারে মহাকুম্ভমেলা!


হাইলাইটস

  • ভক্তদের আশঙ্কাকে আপাতত দূর করে অবশেষে মিলেছে মেলার অনুমতি।
  • মকর সংক্রান্তিতে গঙ্গায় পুণ্যস্নান করতে পারবেন ধর্মপ্রাণ হিন্দুরা।
  • আর সেই দিন থেকেই হরিদ্বারে শুরু হবে মহাকুম্ভ মেলা

এই সময় জীবনযাপন ডেস্ক: কুম্ভমেলা। ওই যেখানে হিন্দি ছবির ভাই-বোনেরা পট পট করে হারিয়ে যেত,আর ছবির শেষে সবাই সবাইকে খুঁজে পেত? লালমোহনবাবু থাকলে হয়তো মুখ ফসকে এমন প্রশ্নই করে বসতেন! সেই লালমোহনবাবুও নেই আর হিন্দি ছবিতে কুম্ভমেলার গ্ল্যামারটাও যেন হারিয়ে গেল হঠাৎ করেই। কিন্তু ধর্মপ্রাণ হিন্দুদের কাছে কুম্ভমেলার গুরুত্ব এতটুকুও কমেনি।

প্রথম পরিচ্ছদ

… তাই করোনার কারণে এবছরের কুম্ভমেলা বাতিল হওয়ার কথা উঠলে যেন কিছুটা প্রমাদ গুনেছিলেন ভক্তরা। তাহলে কি হতচ্ছাড়া রোগের ভয়ে এবার পুণ্যস্নান করা হবে না? ভক্তদের আশঙ্কাকে আপাতত দূর করে অবশেষে মিলেছে মেলার অনুমতি। মকর সংক্রান্তিতে গঙ্গায় পুণ্যস্নান করতে পারবেন ধর্মপ্রাণ হিন্দুরা। আর সেই দিন থেকেই হরিদ্বারে শুরু হবে মহাকুম্ভ মেলা।

গ্রহের ফের

এবারের মেলা ঘটনার ঘনঘটায় পরিপূর্ণ। প্রথম পরিচ্ছদে যেমন করোনা সংক্রমণ জায়গা করে নিয়েছে অনায়াসে। তেমনই দ্বিতীয় পরিচ্ছদে রয়েছে গ্রহের ফের। সাধারণত ১২ বছর অন্তর মহাকুম্ভের আয়োজন করা হয়। সেই মতো মেলা হওয়ার কথা ছিল ২০২২ সালে। এদিকে হিন্দু জ্যোতিষশাস্ত্র অনুযায়ী বৃহস্পতি গ্রহ কুম্ভ রাশিতে প্রবেশ করলে তবেই মেলার আয়োজন করতে হয়। কিন্তু গণনা বলছে আগামী বছর গ্রহরাজ নাকি কুম্ভ রাশিতে প্রবেশ করছেন না। তাই এবারের মেলা সারতে হচ্ছে ১১ বছরের মাথাতেই।

স্নানের বাহার

৪৮ দিন নয়, এবারের মেলা চলবে গুনে গুনে ৬০ দিন। এবারের মহাকুম্ভে থাকছে মোট ৬টি প্রধান পুণ্যস্নান। প্রথম স্নান ১৪ জানুয়ারি, পৌষমাসের শুক্লপক্ষের প্রতিপদ তিথিতে। এদিনের গঙ্গাস্নাননে সকল পাপ দূর হয় বলে বিশ্বাস ধর্মপ্রাণ হিন্দুদের। দ্বিতীয় পুণ্যস্নানের তারিখ ১১ ফেব্রুয়ারি। এদিন মৌনি অমাবস্যা। ১৬ ফেব্রুয়ারি বসন্ত পঞ্চমীর দিন তৃতীয় স্নান সারতে পারবেন ভক্তরা। ২৭ ফেব্রুয়ারি মাঘীপূর্ণিমার দিন হবে চতুর্থ স্নান। ১৩ এপ্রিল চৈত্র মাসের শুক্ল প্রতিপদ তিথি। এদিন ভক্তরা সারতে পারবেন পঞ্চম পুণ্যস্নান। আর ষষ্ঠ পুণ্যস্নানের আয়োজন করতে হবে ২১ এপ্রিল। তিথি অনুযায়ী এদিন রাম নবমী।

আরও স্নান

এখানেই শেষ নয়। মহাকুম্ভের স্নানের বাহারের মধ্যমণি শাহীস্নান। আর তার সংখ্যা চারটি। প্রথম শাহীস্নান ১১ মার্চ শিবরাত্রির দিন। ১২ এপ্রিল সোমবতী অমাবস্যায় রয়েছে দ্বিতীয় শাহীস্নানের নির্দেশ। মেষসংক্রান্তি মানে ১৪ এপ্রিল রয়েছে তৃতীয় মুখ্য শাহীস্নান। আর চতুর্থ তথা শেষ শাহীস্নানের দিন ২৭ এপ্রিল। এদিন বৈশাখি পূর্ণিমা।

বিশ্বাসে মিলায়ে বস্তু

হিন্দুদের বিশ্বাস কুম্ভ তথা মহাকুম্ভের পুণ্যস্নান জীবনের সমস্ত বাধা বিপত্তি থেকে মুক্তি দেয়। আর এবছরের স্নান অতিরিক্ত পুণ্য সঞ্চয়ে সাহায্য করবে বলে বিশ্বাস সকলের। হিন্দু জ্যোতিষশাস্ত্র মতে এবছরের মকর সংক্রান্তিতে রয়েছে ৫টি গ্রহের যোগ। এদিন মকর রাশিতে সূর্য (হিন্দু জ্যোতিষশাস্ত্র মতে এটি গ্রহ)-র পাশাপাশি, বৃহস্পতি, শনি, বুধ এবং চন্দ্রও (হিন্দু জ্যোতিষশাস্ত্র মতে এটি গ্রহ) অবস্থান করবে। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী কুম্ভস্নানে শনির দশা কাটে। রাহু-কেতুর দোষও এই পুণ্যস্নানের ফলে কাছে ঘেঁষতে পারে না। পুণ্যস্নানের পর ঈশ্বরের আরাধনা এবং দানধ্যান করলে জীবনে সমৃদ্ধি আসে বলেও বিশ্বাস করেন ধর্মপ্রাণরা।

ধর্ম ছাড়াও মেলা

ধর্ম ছাড়াও এই মেলার আরেকটা দিক আছে। অ্যাডভেঞ্চারপ্রেমী এবং পর্যটকদের জন্য এই মেলার আদর্শ স্থান। কুম্ভমেলার পুরাণকথা, ইতিহাস এবং বাস্তব পরিস্থিতি কোনও অ্যাডভেঞ্চারের থেকে কম যায় না। হিন্দু ধর্মের সবচেয়ে বড় এবং প্রাচীন এই মানব সমাবেশকে ঐতিহ্যবাহী আখ্যা দিয়েছে ইউনেস্কো। প্রাচীন যুগ থেকে শুরু করে অত্যাধুনিক ভারতীয় সংস্কৃতির নানা জাতি, নানা ভাষা, নানা পরিধানের চলমান ধারক এই মেলা। যতদিন মানবসভ্যতা থাকবে ততদিন বহাল তবিয়তে বিরাজ করবে এই কুম্ভ বা মহাকুম্ভ মেলাও।

সুযোগ না ফস্কায়

অন্যান্যবার ভিড়ভাট্টার কারণে মেলা ঘোরা হাতছাড়া হয়েছে অনেকেরই। এবারের ৬০ দিনব্যাপী চলা এই মেলা কিন্তু সেই সুযোগটাকেই উস্কে দিচ্ছে আবারও। তাই এপ্রিল মাস অবধি হাতে সময় আছে। পুণ্যের লোভ না থাকলেও প্রাচীন এবং আধুনিক ভারতবর্ষের মিলনস্থলকে একবার চোখের দেখা দেখতে ঘুরে আসা যেতেই পারে হরিদ্বারের মহাকুম্ভমেলায়।

এই সময় ডিজিটালের লাইফস্টাইল সংক্রান্ত সব আপডেট এখন টেলিগ্রামে। সাবস্ক্রাইব করতে ক্লিক করুন এখানে।