পার্টনারের সঙ্গে বেড়াতে যান? যে কারণে যাওয়া জরুরি…জানুন


এই সময় জীবনযাপন ডেস্ক: প্রত্যেক মানুষের জীবনেই ঘুরতে যাওয়ার বিশেষ প্রয়োজনীয়তা আছে। একমাত্র বাড়ির বাইরে বেরোলে এবং মানুষের সঙ্গে মেলামেশা করলে তবেই অভিজ্ঞতা বাড়ে। সেই সঙ্গে অবশ্যই মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটে। আর তাই প্রতিটি মানুষেরই উচিত ব্যস্ততার ফাঁকে একটু সময় বের করে ঘুরে আসা। ঠিক তেমনই সময় করে সঙ্গীর সঙ্গেও মাঝেমধ্যে ঘুরে আসুন। কারণ কোথাও একসঙ্গে ঘুরতে গেলে এমন কিছু স্মৃতি তৈরি হয় যা থেকে যায় জীবনভর। এছাড়াও কোথাও ঘুরতে গেলে সেই জায়গাটাকে চেনার মাধ্যমে নিজেকেও চেনা যায়। সঙ্গে রোমাঞ্চ তো থাকেই। আরও কিছু ছোট ছোট জিনিস থাকে যা শুধুমাত্র ঘুরতে গেলেই উপলব্ধি করা যায়। প্রেম করছেন? তাহলে অবশ্যই ঘুরতে যান সঙ্গীর সঙ্গে। ঘুরতে গেলে সম্পর্কে ক্লান্তি আসে না। সেই সঙ্গে একটানা অনেকটা সময় একসঙ্গে কাটানো যায়। তৈরি হয় অনেক খুশির মুহূর্ত। সকালে ঘুম থেকে উঠে একসঙ্গে চা, ব্রেকফাস্ট, শেয়ার করে ঘোরা এসবের মধ্যে অন্যরকম মজা আছে। আর তাই সম্পর্ক নিয়ে যদি ভবিষ্যতের পরিকল্পনা থাকে, তাহলে একে অপরকে আরও ভালো করে চিনতে অবশ্যই ঘুরতে যান।

বন্ডিং ভালো হয়

জীবনে সবারই কাজের গুঁতো, নানারকম চাপ এসব থাকেই। কিন্তু কোথাও ঘুরতে গেলে সেই সব বাধা থাকে না। ফলে মানুষ নিশ্চিন্তে অনেক ভালো করে একে অপরের সঙ্গে মিশতে পারে। সেই সঙ্গে বুঝতেও পারে। আর তাই কোথাও ঘুরতে গেলে বন্ডিং যত ভালো হয়, সেটা একসঙ্গে কফি খেতে গেলে বা শপিং করতে গেলেও হয় না।

একা ঘুরতে যাওয়ার থেকে অবশ্যই সঙ্গীর সঙ্গে যান

হতেই পারে আপনি একা একা ঘুরতে ভালোবাসেন। বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরতে যান। কিন্তু এসবের মধ্যেও বয়ফ্রেন্ডের সঙ্গে আলাদা করে ট্রিপ প্ল্যান করুন। কারণ সেখানে শুধুমাত্র আপনারা দুজনই থাকবেন। বেড়াতে গিয়ে কোনও সমস্যা হলে যেমন দুজনের পাশে থাকবেন তেমনই যে কোনও সিদ্ধান্ত দুজনে মিলে নেবেন। এতে আরও শক্তিশালী হবে সম্পর্ক।

খুশি তখনই দ্বিগুণ হয় যখন দুজন একসঙ্গে সব শেয়ার করে নেন

যে কোনও জিনিস বা মুহূর্ত ভাগাভাগি করে নেওয়ার মধ্যে লুকিয়ে থাকে অনেকখানি আনন্দ। আর তাই একসঙ্গে পাহাড়ে বসে সূর্যোদয় দেখা, ট্রেকিং করা কিংবা সমুদ্রের পাড়ে বসে একসঙ্গে সূর্যোদয় দেখার মজাটাই আলাদা। সেই সঙ্গে তৈরি হয় অনেক গুরুত্বপূর্ণ স্মৃতি। যা হয়তো একা ঘুরতে গেলে হওয়া সম্ভব নয়।

একে অপরকে সঙ্গ দেওয়া যায়

প্রেমিক প্রেমিকা হেক কিংবা স্বামী স্ত্রী, যদি একে অন্যের দেখভাল করলে কার না ভালো লাগে। সকালের চা বানিয়ে দেওয়া, জামাকাপড় গুছিয়ে দেওয়া এরকম টুকটাক কাজ কেউ একজন করলে অন্যজনের ভালোই লাগে। অন্যজনও কিন্তু তাঁর খেয়াল রাখেন। ঠান্ডা লেগে গেলো কিনা, ঠিকমতো খাওয়া দাওয়া হচ্ছে কিনা, সঙ্গীর পছন্দের খাবার খোঁজা…ব্যাস এটুকুই তো জীবনের চাহিদা।

সঙ্গীর বদঅভ্যেসও জানতে পারবেন

সঙ্গীর যে সব খারাপ অভ্যেস রয়েছে যা আপনার এতদিন চোখে পড়েনি বেড়াতে গেলে সেসবও জানতে পারবেন। কারণ যতক্ষণ আপনারা এর আগে দেখা করেছেন, ততক্ষণ ভালোটুকু দেখেছেন। আর তাই তখন বোঝার ভুল থেকে গিয়েছে এমনও হতে পারে। যে কারণে সম্পর্কে এগোতে চাইলে এই দিকটাও দেখুন।

উপকারের জন্য সবসময় অতিরিক্ত একটা হাত আছেই

একসঙ্গে বেড়াতে গেলে প্রথমেই যা হয় তা হল নির্ভরতা। একজন কোনও সমস্যায় পড়লে সবসময় অন্য আরএকজন তো আছেই। এছাড়াও একসঙ্গে বেড়ানোর খরচ ভাগ করে নেওয়া, হোটেল ঠিকঠাক কিনা সেটা দেখা, কোথায় কোথায় ঘুরতে গেলে ভালো এসবের জন্যেও কিন্তু একজনকে দরকার।

খরচা ভাগাভাগি হয়

পার্টনারের সঙ্গে ঘুরতে গেলেও অবশ্যই খরচ দুজনে অর্ধেক করে নেবেন। কেউ একজন একা পুরোটা খরচ করবেন এরকম কখনই করবেন না। এতে পরবর্তীতে অশান্তির সম্ভাবনা থাকে। যা খরচ হবে সব অর্ধেক করে নিন। এতে দুজনে মনের দিক দিয়েও ঠিক থাকবেন। আর বন্ডিংও ভালো থাকবে।

চারজনের থেকে সবসময় দুজন ভালো

গ্রুপে কিংবা একসঙ্গে ঘুরতে যাওয়া অবশ্যই ভালো। কিন্তু একসঙ্গে দুজনের ঘুরতে যাওয়ার অভিজ্ঞতা এসবের থেকে অনেক ভালো হয়য। এক্ষেত্রে দুজনের সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে সব প্ল্যান করা যায়। দলে লোক বাড়লেই বাড়ে মত।