পরিচারিকার সঙ্গে নিত্য অশান্তি? সহজ কিছু টিপস জানুন…কাজে আসতে পারে!


মানুষ হিসেবে আমাদের প্রত্যেককেই সম্মান এবং তাঁদের প্রতি যে কর্তব্য তা পালন করা উচিত। খেয়াল রাখতে হবে তা যেন কখনই পেশার খাতিরে না হয়। কারণ আমাদের সমাজে সকলেই একে অপরের সঙ্গে শৃঙ্খলাবদ্ধ। এক জনকে ছাড়া অন্যজনের চলে না। তাই প্রতিদিনের জীবনে আপনাকে যাঁরা এগিয়ে দিচ্ছেন, তাঁদের সবার সঙ্গেই মানিয়ে চলতে শিখুন। যিনি অফিস যাওয়ার আগে প্রতিদিন আপনার মুখের সামনে খাবার গুছিয়ে দিচ্ছেন, যিনি সাতসকালেই আপনার ঘর ঝাঁটিয়ে মুছে সাফসুতরো করে দিয়ে যাচ্ছেন, যাঁর হাতে সন্তানকে সঁপে দিয়ে আপনি নির্ভয়ে অফিস করছেন- এঁদের সকলের সঙ্গেই মানিয়ে চলুন। একসঙ্গে থাকতে গেলে ঠৌকাঠুকি লাগবেই। তাই তাঁর কোনও ব্যবহারে যেমন আপনার খারাপ লাগতে পারে, তেমনই উল্টোটাও হতে পারে। আর তাই এক্ষেত্রে প্রত্যেককেই নিজ ব্যবহারে সংযত হতে হবে।

পরিচারিকাকে বাইরের লোক হিসেবে দেখবেন না

প্রতি মুহূর্তে এমন কোনও ব্যবহার করবেন না, যাতে আপনার পরিচারিকার মনে না হয় যে আপনি তাঁকে শুধুমাত্র কাজের লোক হিসেবেই দেখেন। শুধু তাই নয়, এমনও মানুষ আছেন যাঁরা বাড়ির বাসি, পচা, উচ্ছিষ্ট খাবার পরিচারিকাকে দিয়ে দেন। এই অভ্যেসও বন্ধ করুন। তিনিও মানুষ। আপনিও মানুষ। কাজেই আপনি যে খাবার খেতে পাচ্ছে না, তা অন্যরা পারবে এমন ভাবনা মাথাতেও আনবেন না। এমন হল যে পরিচারিকা আপনার বাড়িতেই থাকছে। তাহলে তাঁকে থাকার মতো সুন্দর বন্দোবস্ত করে দিন। মনে রাখবেন, তাঁর কাছে এটাই হল দ্বিতীয় বাড়ি।

আপনি কী চাইছেন স্পষ্ট করে বলুন

আপনি তাঁকে কত মাইনে দিচ্ছেন আর তার বদলে আপনি কী কী কাজ চান এই বিষয়ে আগেই কথা বলে রাখুন। নইলে পরে উভয়পক্ষকেই সমস্যায় পড়তে হয়। নির্ধারিত কাজের বাইরে কেউই কখনও কাজ করতে চান না। আর তাই এই বিষয়টা অবশ্যই খেয়াল রাখবেন। দু একদিন হতে পারে, কিন্তু সবদিন নয়।

নিজেই বাড়িতে কিছু নিয়ম তৈরি করুন

গৃহকর্ত্রীর কর্তব্য বাড়িতে কিছু নিয়ম তৈরি করার। পরিচারিকার জন্য নির্দিষ্ট যে কাজ সেই কাজে যাতে বাড়ির সকল সদস্য সাহায্য করেন, সেইদিকে খেয়াল রাখুন। যেমন ঘর মোছার সময় যেন জুতো পরে কেউঘরে না ঢোকে। যেহেতু পরিচারিকা বাসনও মাজেন তাই নির্দিষ্ট সময়ে খাওয়াদাওয়া সেরে ফেলুন। প্রত্যেক মানুষেরই সময়ের দাম আছে।

পরিচারিকার সঙ্গে কথা বলুন

কেউই যন্ত্র মানব নয়, সুতরাং পরিচারিকার সঙ্গেও ভালো করে কথা বলুন। তিনি আপনার বাড়িতে আসলে শুধুই যন্ত্রের মতো কাজ করে বেরিয়ে যাবেন এমনটা নয়। তাঁর কী কী প্রয়োজন, সাবান, ডিটারজেন্ট এসব হাতের সামনে এগিয়ে দিন। এছাড়াও তিনি যদি রান্না করেন, তাহলে কী কী সবজি কাটবেন, রান্নার মেনু এসব নিয়েও আলোচনা করে নিন।

বিশ্বাস রাখুন তাঁর উপর

আপনাকে বিশ্বাস আর ভরসা, দুই রাখতে হবে পরিচারিকার উপরে। আপনি যদি সবসময় তাঁকে সন্দেহ করেন, তাহলে তাঁর পক্ষেও কাজ করা মুশকিলের। এছা়ড়া এটাই তাঁর পেশা। এটাই তাঁর রুটিরুজি। কাজেই সম্মান বজায় থাকুক। আপনার অফিস যেভাবে আপনাকে দেখেন, পরিচারিকাকেও সেইভাবে দেখুন।

তাঁর গোপনীয়তায় সম্মান করুন

প্রত্যেক মানুষের জীবনেই কিছু কিছু গোপনীয়তা অবশ্যই থাকে। আর তা মেনে চলা উচিত। যে কারণে অযথা কাউকে প্রশ্নবাণে বিরক্ত করবেন না। সবাই সবটা আপনাকে বলতে চাইবেন এমনও নয়। প্রতি ক্ষেত্রে কেন আসেননি, কেন ছুটি লাগবে এসব প্রশ্ন করবেন না।

পরিবারের যে কোনও অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ করুন

ধরা যাক আপনার বাড়িতে বেশ কিছু অতিথির আসার কথা রয়েছে। পরিচারিকা তাঁদের জন্য রান্না করল, ঘর গোছানো, বাসন ধোওয়া এসবও করল। কিন্তু এরপর আপনি তাঁকে কোন খাবারই দিলেন না। এমনটা কিন্তু করবেন না। কিংবা বাড়ির সবাই মিলে বাইরে কোথাও গেলে সবসময় পরিচারিকাকে ঘরে রেখে যাবেন না। তাঁকেও নিয়ে বেরোবেন। ভালো খাবার খেতে সকলেরই ভালো লাগে। তাই এটুকু মনুষ্যত্ববোধ সকলের কাছেই প্রার্থনীয়।