‘নিজের সঙ্গে তর্ক চলেছে দীর্ঘ দিন’


অনুভবের ছোঁয়া

২৬ তম কলকাতা চলচ্চিত্র উৎসবে সত্যজিৎ রায় স্মারক বক্তৃতা দিতে শহরে বলিউড থেকে এসেছেন পরিচালক অনুভব সিনহা। এখান থেকে তিনি যাবেন অসমে, তাঁর আগামী ছবির শুটিং করতে। তার আগে তাঁকে ধরে ফেললেন ভাস্বতী ঘোষ

পরিবর্তন এল যে পথে

কেন অনুভব সিনহা চর্চিত শেষ ক’ বছরে? সিনেমাপ্রেমীরা অনেকে বলেন, কারণ অনুভব এক সময় আয়নার সামনে দাঁড়াতে ভয় পাননি। ‘রা ওয়ান’ তৈরি করার পর ভয়ঙ্কর সমালোচিত হয়েছিলেন। পুরোটাই প্রায় নেতিবাচক সমালোচনা। তারপর ২০১৮ থেকে ২০২০ অনুভবের বাজি পাল্টানোর তিন ছবি ‘মুল্ক’, ‘আর্টিকেল ১৫’ আর ‘থাপ্পড়’। ধর্ষণ থেকে ঘরোয়া হিংসার মতো বিষয় নিয়ে ছবি তৈরি করেছেন দক্ষ হাতে। অনুভবের কী হল? মাঝরাতে ঘুম ভেঙে যেত? আজ সত্যজিৎ রায় স্মারক বক্তৃতা দেবেন যিনি, তিনি প্রশ্ন শুনে হেসে ফেললেন। তারপর স্বীকারোক্তি, ‘লম্বা সময় ধরে নিজের সঙ্গে নিজের তর্ক চলতো। তারপর ‘মুল্ক’ বানালাম। যে ছবিটা আমার মনের ভাষা। সেটা যখন দর্শকের ভালো লাগল, অসম্ভব তৃপ্তি পেলাম’। একটা ধাক্কা না খেলে এমন পরিবর্তন হয় না। আপনাকে কে ধাক্কা দিল? ‘বই পড়তে শুরু করলাম। পুরোনো বন্ধুদের সঙ্গে দেখা হল। আড্ডা হল। বিশাল (ভরদ্বাজ), অনুরাগ (কাশ্যপ) এমন অনেকের সঙ্গেও কথা হল। আমি এটুকুই জানি’, বলেন অনুভব। আঁচ করা যায়, এ সব আড্ডায় অনুভব উপলব্ধি করেন, পরিচালক হিসেবে তাঁর সমাজকে ভাবানোর সময় এসে গিয়েছে।

সিনেমার রকমফের

নিছক বিনোদনের জন্য কোনও কিছু পরিবেশন করা কি ঠিক? অনুভবের বক্তব্য, ‘শুধুমাত্র বিনোদন দেওয়ার জন্য অবশ্যই কিছু বানানো যায়। এবং কাজটা সোজা নয়। কিন্তু সেটার মধ্যেও পরিচালক বা লেখকের একটা সমাজভাবনা চলে আসে বলে আমি বিশ্বাস করি’। ‘রা ওয়ান’ বানানোর জন্য কি তাঁর আফসোস হয়? ‘আমি আফসোস শব্দটা ব্যবহার করব না। তবে মনে হয় অন্যভাবে বানাতে পারতাম। অন্যভাবে লিখতে পারতাম’, উত্তর আসে অনুভবের থেকে। বিশ্ব আর দেশের রাজনৈতিক অবস্থা তাঁকে কতটা পীড়া দেয়? অনুভব স্পষ্ট করেন, ‘আমি রাজনীতি বুঝি না। এটা বুঝি আমেরিকাতে যা ঘটছে (বুধবারের ক্যাপিটল আক্রমণ), তা আমার শোকের কারণ’। লকডাউনে তাঁর উপলব্ধি কী? অনুভবের গলা ধরে আসে, ‘আমি যেন বেশি করে স্পিরিচুয়াল হয়ে গেলাম। ইরফান খানের মৃত্যু। ঋষি কাপুরের মৃত্যু। বাস্তবসম্মতভাবে মৃত্যুর সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া শিখলাম। মনে হল, বই পড়তে বেশি ভালো লাগছে। আমি অনেক নন-ফিকশন পড়ি। বিভিন্ন জায়গা, সেখানকার ইতিহাস সম্পর্কে জানতে ইচ্ছে করে। আরেকটা উপলব্ধি হল, শরীর সুস্থ রাখতে এক্সারসাইজ করা দরকার’। সোশ্যাল মিডিয়াতে বেশি সময় ব্যয় করা যাবে না, এটাও কি উপলব্ধি করলেন? অনুভব হেসে বলেন, ‘একটা সময় বেশ অ্যাক্টিভ ছিলাম সোশ্যাল মিডিয়াতে। শেষ ক’ মাস ততটা অ্যাক্টিভ নই। মনে হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়াতে পলিটিক্স করা বাদ থাক’।

কলকাতা কেন প্রিয়

কোনও কলকাতা-যোগ আছে? ‘আমি যদি বলি, কলকাতার সঙ্গে আমার নিবিড় যোগ, তা হলে কি অবাক হবেন?’ পাল্টা প্রশ্ন করেন অনুভব। কথায়-কথায় উঠে আসে, তাঁর বোন এ শহরে থাকেন। প্রিয় বন্ধুরা বাঙালি। বাঙালির সিনেমা-খাওয়াদাওয়া-পদ্য-গদ্য সব পছন্দ অনুভবের। আপনার প্রিয় কবি কে? ‘রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। আমি কিন্তু টেগোর বলিনি’, মজার গলায় বলেন পরিচালক। কলকাতার সিনেমাপ্রেমীরা এখনও আবেগে ভাসেন। কেউ হয়তো অফিস না পৌঁছে চলে গেলেন নন্দনে। একটা বাংলা ছবি দেখার নেশায়। এমন মানুষদের কী বলবেন? অনুভব অনর্গল, ‘আপনারা যে ভাবে সিনেমাকে ভালোবাসছেন, সেরকম ভাবে ভালোবাসুন। দেশের মধ্যে বাংলা আর মালয়ালম এই দুই ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির দর্শকদের দিকে তাকিয়ে আমার মনে হয়, তাঁরা আজও এমন একটা ছবি দেখতে ছুটে যান, যে ছবি ততটাও বাণিজ্যিক নয়’। এরপর কী? অনুভব খোলসা করেন, ‘দু’ সপ্তাহ পর থেকেই অসমে শুটিং করব। অনেকের দাবি স্পাই থ্রিলার বানাচ্ছি আমি। সেটা ঠিক না। আর কিছু বলব না এখন’।

কুইক ফায়ার

কোনটা বাছবেন? ওটিটি নাকি বড়পর্দা?

বড়পর্দা।

শাহরুখ নাকি আয়ুষ্মান?

দু’ জনের তুলনা হয় না। শাহরুখ ইজ শাহরুখ। আয়ুষ্মান আরও অনেকটা পথ গেলে তখন হয়তো তুলনা হতে পারে।

করিনা নাকি তাপসী?

তাপসী।

কফি নাকি ওয়াইন?

কফি।

বই নাকি ফেসবুক?

বই।

এই সময় ডিজিটাল এখন টেলিগ্রামেও। সাবস্ক্রাইব করুন, থাকুন সবসময় আপডেটেড। জাস্ট এখানে ক্লিক করুন-