ঘুরতে ভালোবাসেন? তবে বেশি খুশি থাকবেন! দাবি সমীক্ষার


হাইলাইটস

  • পৃথিবীর মধ্যে যে সব দেশের মানুষ সবচেয়ে বেশি ডিপ্রেশনে ভোগেন, তার মধ্যে প্রথম দিকেই রয়েছে ভারত।
  • জনসংখ্যার ৬.৫% মানুষই ডিপ্রেশনের শিকার। সমীক্ষা বলছে ডিপ্রেশনের দাওয়াই হতে পারে ঘুরতে যাওয়া।
  • নিজের চেনা গণ্ডীর বাইরে কোথাও ঘুরতে গেলে নতুন মানুষের সঙ্গে দেখা হয়, নতুন নতুন অভিজ্ঞতা হয়।

এই সময় ডিজিটাল ডেস্ক: পৃথিবীর মধ্যে যে সব দেশের মানুষ সবচেয়ে বেশি ডিপ্রেশনে ভোগেন, তার মধ্যে প্রথম দিকেই রয়েছে ভারত। জনসংখ্যার ৬.৫% মানুষই ডিপ্রেশনের শিকার। সমীক্ষা বলছে ডিপ্রেশনের দাওয়াই হতে পারে ঘুরতে যাওয়া। নিজের চেনা গণ্ডীর বাইরে কোথাও ঘুরতে গেলে নতুন মানুষের সঙ্গে দেখা হয়, নতুন নতুন অভিজ্ঞতা হয়। এর ফলে কেটে যেতে পারে হতাশা। ট্যুরিজম অ্যানালাইসিস নামের এক জার্নালে সম্প্রতি এই গবেষণা প্রকাশিত হয়েছে।

সেখানে বলা হয়েছে, যাঁরা মাঝে মধ্যেই বেড়াতে যান বা মোটামুটিভাবে বাড়ি থেকে ১২০ কিলোমিটার দূরে যান, তাঁরা অনেক বেশি আনন্দে জীবন যাপন করেন। ওয়াশিংটন স্টেট ইউনিভারসিটির তরফ থেকে চুন চু চেন জানিয়েছেন যে সামগ্রিক ভাবে ভালো থাকা অবশ্যই পারিবারিক জীবন, কর্মক্ষেত্র এবং বন্ধুবান্ধবদের সঙ্গে পারস্পরিক সম্পর্কের উপরে নির্ভর করে। কিন্তু তার সঙ্গে যদি বেড়ানোও যোগ হয়, তা হলে সামান্য হলেও এই ভালো থাকার তীব্রতা বেড়ে যায়। এই সমীক্ষায় ৫০০ জন ব্যক্তির উপরে করা হয়েছিল। এই ৫০০ জনের মধ্যে মাত্র ৭% জানিয়েছেন যে তাঁরা সে ভাবে কোথাও বেড়াতে যান না। কিন্তু বাকিদের মধ্যে অর্ধেক জনতাই জানিয়েছেন যে তাঁরা সারা বছরে অন্তত ৪ টি ট্রিপ করেন। যাঁরা বেড়াতে যান না তাঁদের হতাশায় ভরা জীবন। ডিপ্রেশনের সঙ্গে একাকীত্বের নিবিড় যোগ রয়েছে। আমরা একা থাকতেই হতাশায় ভুগি। বেড়াতে গেলে নতুন নতুন মানুষজনের সঙ্গে দেখা হয়। আপনার ক্যাব চালক থেকে হোটেলের স্টাফ – সবাই আপনার কাছে নতুন। তাদের সবার হয়তো নিজস্ব গল্প আছে। এই নতুন মুখের ভিড় আপনাকে সজীব করে তুলবে।

COVID চিকিৎসায় নজর কাড়ছে নবজাতকের নাড়ি! যা জানা জরুরি…

বেড়ানোও মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য বেশ ভালো। যেমন ট্রেকিং বা অন্য কোনও অ্যাডভেঞ্চার স্পোর্ট। এর ফলে এনডোরফিন হরমোনের নিঃসরণ হয়। এই হরমোনের সক্রিয়তায় ডিপ্রেশন কাটে। মন ভালো হয়। সমীক্ষায় এটিও বলা হয়েছে, যে এমনিতে একজন ব্যক্তি যখন বাড়িতে থাকেন বা শুধু বাড়ি আর অফিসের মধ্যে তাঁর যাতায়াত সীমাবদ্ধ থাকে, তখন তিনি একটি সামগ্রিক রুটিন অনুসরণ করেন। কিন্তু বেড়াতে গেলে সেই রুটিনের ছন্দ কিছুটা হলেও ভঙ্গ হয়। নিজের চেনা গণ্ডি থেকে বেরিয়ে এসে অন্য বৃত্তে পা রাখলে নানা রকমের অভিজ্ঞতা হয়, যা জীবনকে সমৃদ্ধ করে।

সুস্থতার পরও ১ মাস উপসর্গের আশঙ্কা! বলছে COVID রোগীদের নিয়ে সমীক্ষা
সর্বোপরি বাইরে কোথাও যাওয়া মানে এই বিশাল পৃথিবীর অসীম সৌন্দর্যের সামনে আপনি উন্মুক্ত। সেখানে আপনার ব্যক্তিগত দুঃখ-সমস্যা সবই খুব ক্ষুদ্র মনে হবে। সমুদ্র বা পাহাড়ে সূর্যোদয় আপনাকে প্রকৃতির বিশালতার সামনে দাঁড় করিয়ে দেবে। যার ফলে আপনি নিজের মধ্যে লুকিয়ে থাকা আসল মানুষটাকে খুঁজে পাবেন। করোনা সংক্রমণের পর থেকেই বেড়ানোর ক্ষেত্রে অনেক বাধা নিষেধ এসেছে। এখন এক দেশ থেকে অন্য দেশে যাওয়া মানে অনেক নিয়মবিধি মেনে চলা। এই নিয়মের বেড়াজালের প্রভাব পড়েছে ট্যুরিজম শিল্পে। তবে গবেষকরা আশা করছেন যে করোনার প্রভাব স্তিমিত হলে এবং ভ্যাকসিন কার্যকরী হলে বেড়ানো আরও একটু বাড়বে এবং পর্যটন শিল্প কিছুটা হলেও ঘুরে দাঁড়াবে।

এই সময় ডিজিটালের লাইফস্টাইল সংক্রান্ত সব আপডেট এখন টেলিগ্রামে। সাবস্ক্রাইব করতে ক্লিক করুন এখানে।