কীভাবে সঙ্গীর সঙ্গে কাটাবেন Perfect weekend! রইল হাফডজন টিপস…


এই সময় জীবনযাপন ডেস্ক: সোম থেকে শুক্র কাজের চাপ, মিটিং, অ্যাসাইমেন্ট আর ডেডলাইনে নিজের জন্য একটুও সময় থাকে না। সকাল থেকেই ছুটে চলা। খানিক শরীরচর্চার পর ডিটক্স ওয়াটার আর ব্রেকফাস্ট প্যাক করেই অফিসে ছোটা। কাজের মাঝে সঙ্গীর খোঁজ নেওয়ায় ভরসা ওই Whatsapp। ঠিকমতো খাবার প্যাক করে নিয়েছে কিনা কিংবা অফিসের কাজের চাপ কতটা…ব্যাস এটুকুই। দিনের শেষে ক্লান্ত হয়ে বাড়ি ফেরা। ফ্রেশ হয়ে ডিনার করে নিজের টুকটাক কাজ সেরেই ঘুম। আবার যেসব কাপল একে অপরের থেকে দূরে থাকেন, তাঁদের সবদিন দেখাও হয় না। ভরসা সেই উইকেন্ড। আর তাই সপ্তাহের এই দুদিন, বিশেষত রবিবার সবার কাছেই খুব প্রিয়। রবিবার ঘড়ির কাঁটা এমনিই একটু দেরিতে ছোটে। একটু আলসেমি, ভালো ব্রেকফাস্ট, দুপুরে কষা মাংস তারপর ছোট্ট করে ভাতঘুম…সব মিলিয়ে রবিবারের অন্যরকম একটা গন্ধ আছে। প্রেমিক-প্রেমিকা কিংবা স্বামী-স্ত্রী সবারই সপ্তাহের এই একটা দিন একটু নিজের মতো করে কাটানো উচিত, এমনটাই বলছেন বিশেষজ্ঞরা। এতে যেমন মন ভালো থাকে, সম্পর্কের উন্নতি হয়, তেমনই নিজেকে রিচার্জ করে নেওয়ার বিশেষ সুযোগও থাকে কিন্তু এই একটা দিনেই।

‘Me’ Time আর ‘We’ Time এর মধ্যে সামঞ্জস্য রেখে চলুন

সপ্তাহের এই একটা দিন প্রচুর কাজ থাকে সকলেরই। এদিনটা সবাই চান নিজের মতো করে কাটাতে। তাই জোর দিন নিজের প্রায়োরিটি তালিকায়। এদিন হয়তো আপনার ভালো করে ব্রেকফাস্ট করতে ইচ্ছে করল। তারপর ঘরটা একটু নিজের মতো করে গুছিয়ে নিলেন। কিন্তু তার কথাও আপনাকে ভাবতে হবে। তাই একসঙ্গে লাঞ্চ না হলেও ডিনারটা সারুন। একসঙ্গে সিনেমা দেখা, ঘুরতে যাওয়া, বাড়িতে নিজেদের মতো করে আড্ডা, একসঙ্গে রান্না করা মোটকথা জোর দিন We time-এ।

সঙ্গী হোক যৌনতাও

আমরা সকলেই জানি কোনও একটা সম্পর্কে ভালোবাসা, মনের মিল ইত্যাদির পাশাপাশি যৌনতারও প্রয়োজন আছে। শারীরিক মিলও খুবই প্রয়োজন। সপ্তাহের বাকি দিনগুলো সকলেই ক্লান্ত থাকেন, সেইভাবে একে অপরকে সময় দিতে পারেন না। এদিন Sex এর প্ল্যান করুন একটু অন্যরকম ভাবে। এমনকী একটি নির্দারিত সময়ও রাখুন। কারণ সেক্সের আগে মানসিক প্রস্তুতির যেমন প্রয়োজন তেমনই সম্পর্কে স্পার্ক আনতে যদি পারিপার্শ্বিক আবহে একটু রোম্যান্টিকতার ছোঁয়া থাকে তাহলেও মন্দ হয় না। সেই সঙ্গে উপভোগ করা যায় প্রতিটি মুহূর্ত।

নিজেদের মতো করে প্ল্যান করুন

এই একটা দিন নিজেদের মতো করে প্ল্যান করুন। পরিবারের সঙ্গে সময় কাটান। একসঙ্গে রান্না করা, ঘুরতে যাওয়া, এসব অবশ্যই থাকুক আপনার তালিকায়। এদিন একটু অন্যরকম ডিনার হোক। আর দুজনেরই যদি রান্নায় আগ্রহ থাকে তাহলে কোনও কুকিং ক্লাসও বুক করতে পারেন। এছাড়াও বাইক রাইড, লং ড্রাইভ এসব চলতেই পারে।

সারা সপ্তাহ মন দিয়ে কাজের উদ্দেশ্য কিন্তু ভালোথাকা

সারাসপ্তাহ দুজনেই মন দিয়ে কাজ করেন। এর কিন্তু একটাই উদ্দেশ্য। তা হল ভালোথাকা। তাই জোর দিন নিজেদের ভালোথাকায়। ভালো থাকা মানেই অতিরিক্ত খরচ নয়। বরং একটু হিসেব করে চলার চেষ্টা করুন। কেনার ক্ষেত্রেও কোনটা খুব প্রয়োজনীয় সেই তালিকা ঠিক করে নিন। কিছু কাজ নিজেরাই হাতে হাতে সেরে ফেলুন। সব মিলিয়ে একটা ভালো সময় কাটান।

যেতে পারেন উইকেন্ড ট্রিপে

যদি দুজনেরই ছুটি একসঙ্গে মিলে যায় তাহলে বেরিয়ে পড়ুন কোনও একটা উইকেন্ড ট্রিপে। দুটো দিন শহরের কোলাহল ছেড়ে নিজেদের মতো করে কাটান। হতে পারে তা কোনও সমুদ্রের ধার বা জঙ্গল। হতে পারে পাহাড়ি কোনও এলাকাও। চাইলে অংশ নিতে পারেন অ্যাডভেঞ্চারে। ট্রেকিংও করতে পারেন। যেটা দুজনেরই ভালো লাগবে সেরকমই কিছু প্ল্যান করুন।

Work Life আর Home Life আলাদা করুন

work-life-home-life-

অফিসের কাজ যেমন বাড়িতে টেনে আনবেন না তেমনই একটা ছুটির দিন বাড়িতে অফিসের কাজ নিয়ে বসবেন না। অফিসের চাপ, আলোচনা এসব ছুটির দিনে বাড়িতে নয়। নিজের কোনও কাজ থাকলে অবশ্যই সারুন। কিন্তু মাথায় রাখুন সঙ্গীর কথাও। যদি দুজনে একই অফিসে কাজ করেন, তাহলে অফিস সংক্রান্ত সমস্যা বাড়িতে এড়িয়ে যাওয়াই ভালো। আর কর্মক্ষেত্র আলাদা হলে ছুটির দিনে বাড়িতে মিটিং কিংবা কাজের ঝামেলা রাখবেন না। এতে সম্পর্কও খারাপ হয়। কাজের গুরুত্ব সবসময়ই আগে। কিন্তু নিজের জীবনের দিকেও নজর দিন।